ইছামতীতে চলছে অবৈধ বালি খাদান এর ব্যবসা

13th September 2020 5:35 pm স্থানীয় খবর
ইছামতীতে চলছে অবৈধ বালি খাদান এর ব্যবসা


ইচ্ছামতী নদী বিধৌত প্রাচীন জনপদ বাদুড়িয়া। বাদুড়িয়া থানার অন্তর্গত সুজলা সুফলা লক্ষ্মীনাথপুর ও কাঁকড়া সুতি গ্রাম আজ বালি খাদান মাফিয়াদের স্বর্গরাজ্য। মনসা মঙ্গলের কবি বিপ্রদাস পিপলাই ও বিখ্যাত কবি রাম বসুর জন্মস্থান এক অদ্ভুত আলোক হীনতার অন্ধকারে নিমগ্ন।
কয়েক বছর আগে সাধারণ মানুষের প্রতিরোধের মুখে ওপর তোলার প্রশাসন থেকে এসে অবৈধ ২ টি বালি খাদানের কিছু যন্ত্রপাতি বাজেয়াপ্ত করা হয়। বন্ধ হয় লক্ষ লক্ষ টাকার অবৈধ ব্যবসা। কয়েক মাস আগে শাসক দলের উঁচু তলার আঙ্গুলি হেলনে হটাৎ করে আবার  শুরু হয় বালি মাফিয়াদের রমরমা কারবার।
শিক্ষত, সমৃদ্ধ গ্রাম লক্ষ্মীনাথপুরে বুক চিরে সারারাত ধরে চলতে থাকে কয়েক টন ভিজে বালি ভর্তি দৈত্যাকার লরি। বাড়ির ভীত থেকে বয়স্ক মানুষের হৃৎপিণ্ড কাঁপিয়ে চলা গাড়ি গুলি আটকালে পুলিশ প্রশাসনের হুমকির মুখে পড়তে হয় সাধারণ গ্রামবাসীর।
নদী গর্ভের একটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে কিউসেকের পর কিউসেক জল সহ বালি কয়েকশো মিটার মোটা পাইপ লাইন সহ নিয়ে যাওয়া হয় সরকারি রাস্তা খুঁড়ে তাঁর নিচ দিয়ে। এর ফলে নদীর দুই তীরে নাব্যতার তারতম্য ঘটে। ঠিক এই জায়গায় ইচ্ছামতী নদীর ওপর নির্মীয়মান কাঁটা খালি সেতুটি এর ফলে বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে আছে।
শাসক দলের কারবারিদের প্রসারিত হস্তের ভয়ে গ্রামবাসীদের মুখে কুলুপ। কিছু সৎ ও সাহসী মানুষ এগিয়ে এসে ওসি থেকে বিডিও, ডি এম থেকে নবান্ন লিখিত ভাবে প্রশাসনের দ্বারস্থ হন।
 à¦•িন্তু অবৈধ টাকার বোকরা যদি তৃণমূল পর্যায় থেকে উঁচু লেভেল পর্যন্ত পৌঁছে যায় তাহলে বোধহয় কলমকে তরবারির চেয়ে ধারালো হওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। এই সামাজিক ব্যাধি দূরীকরণে অবচেতন গণমাধ্যমের সচেতন পদক্ষেপ ছাড়া উপায় নেই।





Others News

তিতুমীরের নাম মুছে শ্যামাপ্রসাদ ভবন, পরিচয় বদল ঘিরে বিতর্ক

তিতুমীরের নাম মুছে শ্যামাপ্রসাদ ভবন, পরিচয় বদল ঘিরে বিতর্ক


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: খাতায় কলমে সরকারি সভাকক্ষ। অথচ একটি অনুষ্ঠানের মধ্যেই বদলে গেল সবকিছু! উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের দীর্ঘদিনের ‘তিতুমীর সভাকক্ষ’-র নাম মুছে দিয়ে লেখা হল  ‘শ্যামাপ্রসাদ ভবন’। অভিযোগ, সভাকক্ষের দেওয়াল থেকে তিতুমীরের ছবি নামিয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ছবি টাঙানো হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে হিন্দু জাগরণ মঞ্চ। বুধবার সংগঠনের অখণ্ড ভারত সংকল্প সপ্তাহের অনুষ্ঠান ছিল জেলা পরিষদের সভাকক্ষে। সেই অনুষ্ঠানে ‘বদলে গেল’ সরকারি সভাকক্ষের পরিচয়। বদলের পরেই সামনে এসেছে আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন— জেলা পরিষদের সরকারি ভবনে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুমতি কে দিল? উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদ তৈরি হয় ১৯৮৬ সালের ২৬ জুন। পরে গঠিত হয় জেলা পরিষদ। তখন থেকেই সভাকক্ষটির নাম তিতুমীর সভাকক্ষ। নামের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মানুষটিও এই জেলার ইতিহাসের অংশ। বাদুড়িয়ার বাসিন্দা সৈয়দ মীর নিসার আলি— ইতিহাসে তিতুমীর। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা, জমিদারদের বিরুদ্ধে কৃষকদের সংগঠিত করা এবং নারকেলবেড়িয়ার বাঁশের কেল্লা আজও বাংলার ইতিহাসের পরিচিত অধ্যায়। আর সেই তিতুমীরের ছবি সরিয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ছবি টাঙানো ও সভাকক্ষের নতুন নাম ঘোষণা— দুটিই করলেন হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যরা। সংগঠনের নেতা সঞ্জীব মাহাতোর বক্তব্য, রাজনৈতিক পরিবর্তন হলেও হিন্দুদের সামাজিক জয় হয়নি। অখণ্ড ভারত সংকল্প নিয়েই তিতুমীর সভাকক্ষের নাম বদলে শ্যামাপ্রসাদ ভবন করা হয়েছে। এনিয়ে উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শিল্পা গৌরিসরিয়া বলে, এটা সরকারি সম্পত্তি। কিন্তু কি হয়েছে তা আমার জানা নেই। আমাকে কিছু বলাও হয়নি। এদিকে জেলা পরিষদের সভাপতি নারায়ণ গোস্বামী বলেন, আমি কলকাতায় জরুরি বৈঠকে আছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে বলব।