আজকে আমরা মুর্শিদাবাদ জেলার ডিস্ট্রিক্ট সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অফিসারের (DSWO) এবং প্রোটেকশন অফিসারের ( Protection Officer) কাছে এসেছিলাম ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স আইনের আওতায় পুরুষদের অন্তর্ভুক্তিকরণের জন্য এবং পুরুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা DIR Report এর বিষয়টি তুলে ধরার জন্য।
আজকে আমাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অসীম বিশ্বাস, আমি কাজল বিশ্বাস, সাহিদ আহমেদ সিদ্দিকী এবং সামিম মোল্লা।
আমাদের দেশে ২০০৫ সালে ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স অ্যাক্ট (DV Act) আনা হয়েছিল নারীদের গার্হস্থ্য হিংসা থেকে সুরক্ষা দেয়ার জন্য। অথচ আশ্চর্যের বিষয় পুরুষের জন্য এই আইনে সুরক্ষার কোন ব্যবস্থা নেই।
কিন্তু যত দিন যাচ্ছে ততই দেখা যাচ্ছে পুরুষরাও অনবরত গার্হস্থ্য হিংসা শিকার হচ্ছেন। অথচ এই ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স অ্যাক্টে পুরুষদের জন্য কোন বিচার নেই । ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স আইনের আওতায় শুধুমাত্র একজন নারীই বিচার চাইতে পারেন, একজন পুরুষের কোন স্থান নেই।
আমরা প্রতিদিন দেখতে পাচ্ছি বাড়িতে বাড়িতে স্ত্রীর হাতে পুরুষ বিভিন্নভাবে অত্যাচারিত হচ্ছেন। কখনো পরকীয়ার জন্য খুন করা হচ্ছে স্বামীকে, কখনো বাড়ি ঘর থেকে আলাদা করে দেওয়া হচ্ছে বৃদ্ধ বাবা-মা শুদ্ধু স্বামীকে । এছাড়া বিভিন্নভাবে পুরুষের ভয় দেখানো, মিথ্যা মামলাযর হুমকি দেখানো এসব তো রয়েছেই ।
আমাদের দেশে সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুসারে আইনের চোখে সবার সমঅধিকার হলেও এক্ষেত্রে কিন্তু তার উল্লংঘন ঘটছে। আমেরিকা-ব্রিটেন ইত্যাদি বিভিন্ন দেশে গার্হস্থ্য হিংসা আইন সম্পূর্ণ লিঙ্গনিরপেক্ষ এবং এই আইনের আওতায় নারী বা পুরুষ উভয়েই বিচার চাইতে পারেন।
আমরা ভারতীয় পুরুষরা আজকে অসহায় ভাবে বেঁচে আছি। নারীদের জন্য শুধু ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স অ্যাক্ট নয় এছাড়াও রয়েছে 498a, CrPC 125 ইত্যাদি বহুবিধ আইন। আজকে আমরা এই কারণে আপনাদের কাছে এসেছি যাতে পুরুষদের এই ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সের আওতায় আনা হয়। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে ভারতের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পুরুষ মানুষ কোনো না কোনো ভাবে গার্হস্থ্য হিংসার শিকার হন। বিভিন্ন সময়ে এই বিষয়টি গবেষণামূলক পত্রে প্রকাশিত হয়েছে। অথচ পুরুষরা লজ্জায় সামনে এসে বলতে পারেন না। আমরা চাইছি সেই জায়গাটার অবসান ঘটুক। প্রতিটি নাগরিক সুবিচার পান।
এছাড়াও আরো একটি বিষয় আমরা আজকে বলতে চাইছি। সেটা হল এই ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স অ্যাক্টের সেকশন ৯ অনুসারে একজন প্রোটেকশন অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডোমেস্টিক ইন্সিডেন্ট রিপোর্ট অর্থাৎ গার্হস্থ্য হিংসা বিষয়ে একটি নিরপেক্ষ রিপোর্ট অর্থাৎ DIR পেশ করার জন্য। অথচ কার্যক্ষেত্রে দেখা যায় ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সের জন্য যে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় এই DIR রিপোর্টটি সম্পূর্ণ তার হুবহু কপি করে জমা দেয়া হয়। কবে কিভাবে অভিযোগের সত্যাসত্য নির্ধারণ করা হলো সে সমস্ত কিছুই বোঝা যায় না। পরবর্তীকালে বহুসংখ্যক DV মামলা মিথ্যা প্রমান হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবৎ এই মামলা চলার ফলে স্বামী এবং অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন হেনস্থা ভোগ করেন। আমরা তাই প্রটেকশন অফিসার যিনি রয়েছেন তার কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি তিনি যেন যথোপযুক্ত তদন্ত করে তবেই DIR রিপোর্ট আদালতে পেশ করেন। এর ফলে বহুসংখ্যক নিরীহ মানুষ অযথা আইনি সমস্যার হাত থেকে নিষ্কৃতি পাবেন বলে আমরা মনে করি।
পুরুষের স্বার্থে আমাদের সংগঠন পুরুষ কল্যাণ এইভাবেই লড়াই করে যাবে। আমরা চাই আপনারাও পুরুষদের স্বার্থ রক্ষার জন্য এই আন্দোলনে এগিয়ে আসুন।
পুরুষ কল্যান পাবলিক চ্যারিটেবল ট্রাষ্ট।